টেকনাফে ইয়াবায় ভাগ্য বদল শফিকের

খাঁন মাহমুদ আইউব (কক্সবাজার) : সী-বিচ এলাকায় ছোলা-মুড়ি বিক্রেতা শফিক এখন টেনকাফের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় নাম রয়েছে তার। মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই বীরদর্পে ঘুরছে শফিক। কোটি টাকার সম্পদের মালিক শফিকের বাবার নাম আবদুল গফুর। পেশায় রিক্সার মিস্ত্রি। টেকনাফ থানা পুলিশ বলছে সম্ভাব্য স্থানে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে শফিককে গ্রেফতারে তৎপত রয়েছে প্রশাসন। এমনটাই জানালেন ওসি বাবু রঞ্জিত বড়ুয়া।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দেশব্যাপী মাদক কারবারীদের পাকড়াও করতে আইন শৃংক্ষলা বাহিনী তৎপরতার মধ্যেও কক্সবাজার টেকনাফের তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারী শফিক বহাল তবিয়তে ঘুরছে জনসমক্ষে। শীর্ষ ইয়াবা-মানব শফিক সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রহরায় চলাফেরা করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। মেরিন ড্রাইভ ও চট্টগ্রাম থেকে দুইবার আটক হয়েছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, পরকিয়া, ইয়াবা পাচার, জমি দখলসহ নানান অভিযোগের পাহাড় ইয়াবা-মানব শফিক এর বিরুদ্ধে।

কে এই ইয়াবা মানব :
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার রিক্সা মিস্ত্রী গফুরের ছেলে শফিক।২০০৫ সালের দিকে সী-বীচ রোডে ছোলা-মুড়ি বিক্রি করতো। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দেন শফিক। বছর তিনেক পর ফিরে এসে জড়িয়ে পরেন ইয়াবা ব্যবসায়। গফুর, মনির আলম বাদশা মিলে পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। ব্যবসা ছড়িয়ে পরলে আবারো পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যে। তিন মাস থেকে আবারও ফিরে আসেন শফিক। ধারণা করা হচ্ছে এসময়ে তিনি মরণ নেশার বরি ইয়াবা বিদেশেও পাচার করেন। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় টেকনাফে শীর্ষ ইয়াবা কারবারীদের কাতারে নিজের অবস্থান তৈরী করেন। আর ফিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ইয়াবা-মানব শফিকের নাম রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের হালনাগাদ তালিকায়। শফিকের তিন স্ত্রী রয়েছে। এরপরও নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পরেন তিনি। প্রবাসীর স্ত্রী ও সরকারী এক চাকুরীজিবীর স্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সংসার ভাঙ্গার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্পদের পাহাড় :
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, পৌরসভা, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। অনুসন্ধানে পাওয়া সুত্র মতে, সদর ইউনিয়নের পূর্বডেইল পাড়া মসজিদের সামনে দু’তলা ভবন, সেমিপাকা বাড়িসহ তিনটি জমি, ইয়াবা কারবারী ফজলের বাড়ির সামনে তিন তলা ভবন, পশ্চিম ডেইল পাড়া হাফেজ উল্লাহর বাড়ি সংলগ্ন বিশাল মার্কেটসহ ভাড়া বাসা, আদিল মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন প্রচীর ঘেরা আরো একটি জমি, শাহ আলমের বাড়ির পেছনে জমিতে গড়ে তুলেছে আলিশান কটেজ। মূলত ওই কটেজে বসে নিয়ন্ত্রণ করের তার অপরাধ সম্রাজ্য।

এছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম গোদারবিল এলাকায় রয়েছে দু’টি জমি, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রয়েছে ২০ কানি জমি। জমিগুলো মহেষখালীয়া পাড়ার মোস্তাক মেম্বারের ওয়ারিশ থেকে কেনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। রয়েছে ট্রাকসহ তিনটি মোটর সাইকেল।

নিজস্ব স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী :
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা ব্যবসা নির্ভীঘ্ন করতে গড়ে তুলেছে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। যুব উন্নয়ন সংগঠনের নামে এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করেছেন শফিক। তার বিরুদ্ধে কারোর মুখ খোলার সাহস নেই। গত মাসে এই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে একই এলাকার প্রবাসী শাহ আলমের জমি জবর দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করে এবার শফিকের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান শাহ আলম।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাবু রঞ্জিত বড়ুয়ার সাথে। তিনি জানান, সে পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড ইয়াবা কারবারী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। তাকে পাকড়াও করতে পুলিশ বেশ কয়েক বার হানা দিয়েছিলো। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

শেয়ার করুন