এম আবু হেনা সাগর: চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় “ঝুইর” হলো একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে কৃষকের মাথায় বৃষ্টি সামলানোর সঙ্গী। কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত এই জিনিসটি এখন প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারে ঈদগাঁও উপজেলা থেকে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার "যুইর"।
ছাতা,রেইনকোট নয়,একসময়ে গ্রামীন জনপদে বর্ষাকালের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী ছিল তালপাতার এ যুইর। চাষিরা ধানক্ষেতে কাজ করাকালীন সময় মাথার উপর ছাতার পরিবর্তে বৃষ্টি সামলানোর জন্য ব্যবহার করতো এটি।
গরমে হাতপাখা যেমন অপরিহার্য ছিল, তেমনি বর্ষায় এটির কদরও বৃদ্ধি ছিল। এটি মূলত তৈরি হতো তালপাতা দিয়ে। গ্রামীণ মেলাতেও বিক্রি হতো দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে বানানো যুইর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এটির পরিবর্তে ছাতা এবং রেনকোটের ছড়াছড়ি। কদরহীন তৎকালীন বর্ষা মৌসুমের একমাত্র কৃষকের প্রতীক যুইর। তাল পাতা দিয়ে তৈরী যুইর হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ শিল্প। একসময়ের গ্রামীণ জীবনযাত্রা অপরিহার্য অঙ্গ যুইর আজ স্মৃতির পাতায় বন্দি। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতীকও বটে।
সময় বদলে গেছে। এখন ছাতা,রেনকোট আর প্লাস্টিক শিল্পের সহজলভ্যতায় যুইরের কদর অনেকটাই কমে গেছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে পলিথিন-ত্রিপলের চেয়ে তালপাতার যুইর ছিল পূর্বেকার দিনের টেকসই জিনিস। যার কারনে প্রায় প্রতিজন কৃষকের মাথায় এটি দেখা মিলত।
প্রাপ্ত তথ্য জানা যায়, ঈদগাঁও বাজারের জাগির পাড়া সড়কের মাথা,বাঁশঘাটা সড়কের দুয়েকটা পয়েন্টে গ্রামীন ঐতিহ্যে (যুইর) বিক্রি করতো তৎকালীন কিছু সংখ্যক মুরব্বি। এখন সেটিরও আর দেখা যায়না।
প্রবীণ মুরব্বী আলম জানান, যুইর দিয়ে বর্ষায় কৃষকরা ভালভাবে কাজ করতে পারতো। মাথায় দিয়ে বৃষ্টির পানি সামলানো যেতো। বেশ মজবুত ছিলো এগুলো। এখন সেটি আর পাওয়া যাবেনা হয়তো।
নুরুল ইসলাম জানান, একসময়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়ীঘরে কৃষি কাজের সঙ্গী হিসেবে দেখা যেতো যুইর। বতমান যুগের তরুন প্রজন্মরা (যুইর) এর কাজ কি সেটিও জানেন না।
সম্পাদকঃ জিয়াউদ্দিন এম এনায়েতুল্লাহ্ হিরো
কপিরাইট - নয়াবাংলা কতৃক স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত