নিজস্ব প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে চোরাই রাবার উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আজগর সালেহীকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জাহেদ ইসলাম যুবলীগ ক্যাডার এবং পলাতক সন্ত্রাসী আবু তৈয়বের ক্যাডার। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভূজপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় একটি কভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় চুরির দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১৭, তারিখ ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ও রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক আজগর সালেহী তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ ঘটনা নিয়ে কর্মরত দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ১২ মিনিট ও ১০টা ১৪ মিনিটে ০১৭৭৭-৪০৭৭৭৭ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। এ সময় তাঁকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনে নিজেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আবু তৈয়বের ডান হাত বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের সংঘবদ্ধ গ্যাং রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নসহ উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় গেলে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক আজগর সালেহী।
জিডিতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম উপজেলার ২নং দাঁতমানা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়ার মোহাম্মদ রফিকের ছেল।
তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চেক করে জানা যায়, সে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী ফেস্টুন ও ব্যানারসংবলিত পোস্ট পলাতক শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার বিরোধী আন্দোলন করার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে।
সাংবাদিক আজগর সালেহী ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক সাঙ্গুর নিজস্ব প্রতিনিধি এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দ্য মুসলিম টাইমসের চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। এছাড়াও তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার সদস্য ও ভূজপুর শাখার সেক্রেটারি এবং ভূজপুর মজলুম ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিক আজগর সালেহী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন সাংবাদিক, সংগঠক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
সাংবাদিককে হুমকির ব্যাপারে ভূজপুর থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, ডায়েরিটা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থার জন্যে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং পেশাজীবি সংগঠন নিন্দা জানিয়েছেন।
সম্পাদকঃ জিয়াউদ্দিন এম এনায়েতুল্লাহ্ হিরো
কপিরাইট - নয়াবাংলা কতৃক স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত